পে স্কেলে বেতন বাড়ছে ৯০ শতাংশ? জেনে নিন আসল সত্য

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে একটি খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে, সরকারি চাকরিতে পে স্কেলে বেতন বাড়ছে ৯০ শতাংশ। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে এমন খবর সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের পাশাপাশি বিভ্রান্তিরও সৃষ্টি করেছে। কিন্তু এই খবরের ভিত্তি কতটুকু? ২০২৬ সালে এসে নবম পে স্কেল নিয়ে সরকার আসলে কী ভাবছে? আজ আমরা অফিশিয়াল তথ্য এবং পে – কমিশনের সাম্প্রতিক আপডেটগুলো যাচাই করে আসল সত্য তুলে ধরব।

পে স্কেলে বেতন বাড়ছে ৯০ শতাংশ_ জেনে নিন আসল সত্য (1)

সামাজিক মাধ্যমের গুজব বনাম বাস্তবতা

ফেসবুক বা ইউটিউবে প্রায়ই দেখা যাচ্ছে যে, নতুন পে স্কেলে বেতন প্রায় দ্বিগুণ বা ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ছে। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় বা জাতীয় বেতন কমিশন থেকে এখন পর্যন্ত এমন কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। পে স্কেলে বেতন বাড়ছে ৯০ শতাংশ, এই দাবিটি মূলত একটি গুজব। পে-কমিশনের দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, বেতন কত শতাংশ বাড়বে বা গ্রেড সংখ্যা কত হবে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কমিশনের সদস্যদের মধ্যেই এ নিয়ে আলোচনা ও মতভেদ রয়েছে, তাই কোনো সুপারিশ এখনও সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়নি।

নবম পে স্কেল নিয়ে পে – কমিশনের আপডেট

সর্বশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম পে স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন পে স্কেল আসেনি, তবে সরকার ৫% হারে বিশেষ সুবিধা বা প্রণোদনা দিচ্ছে। নবম পে স্কেল নিয়ে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, তা কাটাতে আগামী ৮ জানুয়ারি, ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) দুপুর ১২টায় সচিবালয়ে পূর্ণ কমিশনের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই সভায় গ্রেড সংখ্যা ১৬টি, ১৪টি নাকি বর্তমান ২০টিই থাকবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

গ্রেড সংখ্যা কি কমছে ?

কমিশনের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, বেতন কাঠামোর গ্রেড পরিবর্তন নিয়ে তিনটি বিকল্প প্রস্তাব বিবেচনায় আছে। একটি অংশ চাইছে বর্তমান ২০টি গ্রেড বহাল থাকুক। অন্য একটি অংশ গ্রেড কমিয়ে ১৬টি বা ১৪টি করার পক্ষে মত দিয়েছে। তবে ১৬ গ্রেড বা ৯০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির যে কথা রটানো হচ্ছে, তা কমিশন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। পে স্কেলে বেতন বাড়ছে ৯০ শতাংশ, এমন চটকদার খবরে কান না দিয়ে সরকারি সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

সঠিক তথ্যের জন্য করণীয়

সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রতি বছর জুলাই মাসে ৫% হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। এর বাইরে বড় কোনো পরিবর্তনের জন্য অবশ্যই বাংলাদেশ গেজেট বা অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট (mof.gov.bd) অনুসরণ করা উচিত। গুজবে বিশ্বাস করে বিভ্রান্ত না হয়ে, পে – কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ এবং প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পরেই কেবল বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে নতুন পে স্কেল সময়ের দাবি। কিন্তু পে স্কেলে বেতন বাড়ছে ৯০ শতাংশ, এমন অমূলক খবরে বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ নেই। কমিশনের চলমান পর্যালোচনা এবং আসন্ন সভার পরেই জানা যাবে আসলে কী পরিবর্তন আসছে। ততক্ষণ পর্যন্ত সরকারি গেজেট এবং নির্ভরযোগ্য সংবাদ মাধ্যমের ওপর আস্থা রাখাই শ্রেয়। বাস্তবসম্মত এবং গ্রহণযোগ্য একটি পে স্কেল শিগগিরই আলোর মুখ দেখবে, এমনটাই প্রত্যাশা সবার।